পেকুয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে উফশী রোপা আমন ধানের চারা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বন্যায় প্রায় ৫০ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্য থেকে বাছাই করে ৪০ জন কৃষককে এ সহায়তা দেওয়া হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এসব চারা বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় পেকুয়া উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে আমন ধানের চারা তুলে দেওয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এ চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোসেন, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছৈয়দ আলম, গোলাম মোস্তফা ও আক্তার কামাল বাবুসহ তালিকাভুক্ত ৪০ জন কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে যারা আমন আবাদে পুনরায় ফিরতে আগ্রহী ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় পড়েছেন, তাদের মধ্য থেকে ৪০ জন কৃষককে চারা বিতরণের জন্য বাছাই করা হয়।

বিতরণ করা চারা দিয়ে প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করতে পারবেন। ফলে ৪০ জন কৃষক সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করতে পারবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আবাদে ফেরানো এবং চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদন ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৬০ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলার কৃষকদেরও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ২৫০০ জনকে পাঁচ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৫০০ কেজি উফশী আমন ধানের বীজ বিতরণ করা হয়।

কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী জানান, বন্যায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো আমন আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন। সরকারি পুনর্বাসন সহায়তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বীজ ও চারা সরবরাহ করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার সুযোগ পান। এতে একদিকে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে কৃষি উৎপাদন সচল রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে চারা ও বীজ পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিজস্ব অর্থে এসব কৃষি উপকরণ সংগ্রহের চাপও কমেছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের দ্রুত কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পেকুয়ার কৃষকদের জন্য আমন মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যার কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে সময়মতো বীজ ও চারা পৌঁছে দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই আবার আমন আবাদে ফিরতে পারবেন। এর ফলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আমন ধানের উৎপাদন অব্যাহত রাখার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।